সময়সূচীঃ গ্রীষ্মকালীন (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) শনিবার-বুধ (সকাল ১০.৩০ টা থেকে বিকাল ৫.৩০ টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত। • শীতকালীন (অক্টোবর থেকে মার্চ) শনিবার-বুধ (সকাল ৯.৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪.৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।) • রমজান মাসে: শনিবার-বুধবার (সকাল ৯.৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।) • বৃহস্পতিবার এই জাদুঘরের সাপ্তাহিক বন্ধ।
প্রবেশ মূল্যঃ • দেশী দর্শনার্থীদের জন্য টিকেট ২০ টাকা। • বিদেশী দর্শনার্থী (সার্কভুক্ত দেশ) এর জন্য টিকেট ২০ টাকা। • বিদেশী দর্শনার্থী (সার্ক ব্যতীত) এর জন্য টিকেট ১০০ টাকা।
সময়সূচীঃ গ্রীষ্মকালীন: সোমাবার থেকে শনিবার সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। • শীতকালীন: সোমাবার থেকে শনিবার সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। • রবিবার জাদুঘর বন্ধ থাকে।
প্রবেশমূল্যঃ জনপ্রতি ১০ টাকা।
স্বাধীনতা যাদুঘর
ঠিকানাঃ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা, ঢাকা।
সময়সূচীঃ প্রতি শনিবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকেল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সাপ্তাহিক বন্ধ বৃহস্পতিবার। এ ছাড়া সরকারি ছুটির দিনে জাদুঘরটি বন্ধ থাকবে।
প্রবেশমূল্যঃ • দেশী দর্শনার্থীদের জন্য টিকেট ২০ টাকা। • বিদেশী দর্শনার্থী (সার্কভুক্ত দেশ) এর জন্য টিকেট ২০ টাকা। • বিদেশী দর্শনার্থী (সার্ক ব্যতীত) এর জন্য টিকেট ১০০ টাকা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মৃতি জাদুঘর
ঠিকানাঃ বঙ্গবন্ধু ভবন, বাড়ি# ১০, রোড# ৩২ (পুরাতন), ১১ (নতুন)।
ফোনঃ ৮৮-০২-৮১১০০৪৬
সময়সূচীঃ সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত জাদুঘরটি খোলা থাকে। • জাদুঘরটির সাপ্তাহিক বন্ধ বুধবার।
প্রবেশমূল্যঃ টিকেটের মূল্য ৫ টাকা। • ৩ বছরের কম বয়সীদের কোন টিকেট লাগে না। . • শুক্রবার ১২ বছরের কমবয়সীদের কোন টিকেট লাগে না।
সামরিক জাদুঘর
ঠিকানাঃ বিজয়সরণী, শের-এ-বাংলা নগর, ঢাকা।
সময়সূচীঃ সপ্তাহের পাঁচ দিন শনিবার, রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার জাদুঘর খোলা থাকে। • গ্রীষ্মকালে সকাল ১০.৩০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬.৩০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। • শীতকালে ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। • বুধবার এবং শুক্রবার জাদুঘরটি বন্ধ থাকে।
প্রবেশমূল্যঃ এই জাদুঘরে প্রবেশের জন্য কোন টিকেট লাগে না।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর
ঠিকানাঃ শহীদ সাহাবুদ্দিন সড়ক, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭
ফোনঃ +৮৮-০২-৯১১২০৮৪
সময়সূচীঃ শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত এই জাদুঘর খোলা থাকে বেলা ০৯:০০টা থেকে বিকেল ০৫:০০টা পর্যন্ত।
প্রবেশমূল্যঃ জনপ্রতি ০৫ টাকা (০৫ বছরের উপরের সকলের জন্য)
সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর
ঠিকানাঃ পানাম নগর, মুগরাপারা, সোনারগাঁও।
সময়সূচীঃ গ্রীষ্মকালীন (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) শনিবার-বুধ (সকাল ১০.৩০ টা থেকে বিকাল ৫.৩০ টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত। • শীতকালীন (অক্টোবর থেকে মার্চ) শনিবার-বুধ (সকাল ৯.৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪.৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।) • রমজান মাসে: শনিবার-বুধবার (সকাল ৯.৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।) • বৃহস্পতিবার এই জাদুঘরের সাপ্তাহিক বন্ধ।
প্রবেশমূল্যঃ জনপ্রতি ২০ টাকা।
লালবাগ কেল্লার জাদুঘর
ঠিকানাঃ লালবাগ, ঢাকা-১২১১। সময়সূচীঃ
সময়সূচী • গ্রীষ্মকালীন: ১লা এপ্রিল থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সকাল ১০.০০ টা থেকে বিকেল ৬.০০ টা পর্যন্ত। দুপুর ১.০০ টা থেকে ১.৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতি। শুক্রবার: সকাল ১০.০০ টা থেকে ৩.০০ টা পর্যন্ত। ১২.৩০ মিনিট থেকে ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতি। • শীতকালীন: ১লা অক্টোবর থেকে ৩০শে মার্চ পর্যন্ত সকাল ৯.০০ টা থেকে বিকেল ৫.০০ টা পর্যন্ত। দুপুর ১.০০ টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বিরতি। শুক্রবার সকাল ৯.০০ থেকে বিকেল পর্যন্ত। দুপুর ১২.৩০ মিনিট থেকে ২.০০ টা পর্যন্ত বিরতি। • রবিবার পূর্ণ দিবস বন্ধ থাকে ও সোমবার অর্ধ দিবস পর্যন্ত বন্ধ থাকে। এছাড়া সরকারী ছুটির দিনগুলোতে লালবাগ কেল্লা পূর্নদিবস বন্ধ থাকে।
প্রবেশমূল্যঃ • জনপ্রতি দেশী পর্যটক ও দর্শনার্থী ১০.০০ টাকা • জনপ্রতি বিদেশী পর্যটক ও দর্শনার্থী = ১০০.০০ টাকা • ৫ বছর বয়সের নীচে বাচ্চাদের জন্য কোন টিকেট লাগে না।
আহসান মঞ্জিল জাদুঘর
ঠিকানাঃ বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর পাশে আহসান মঞ্জিল অবস্থিত।
জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রতিক্রিয়ায় প্রায় সারা বিশ্ব যখন সোচ্চার তখন চুপ থাকতে পারেনি সৌদি আরবও। উপসাগরীয় ও আরব দেশগুলোর প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় রিয়াদও ওই ঘোষণাকে অন্যায্য ও দায়িত্বহীন আখ্যা দিয়েছে। তবে এরইমধ্যে জেরুজালেম সংক্রান্ত খবর প্রকাশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে দেশটিতে। জর্ডানে থাকা সৌদি নাগরিকদের বলা হয়েছে প্রতিবাদ না করতে। এমন প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, রিয়াদ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে অংশীদার হিসেবেই কাজ করছে। এছাড়া সৌদি যুবরাজের কথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে মার্কিন মদদ, মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ট্রাম্পের অবস্থান মানতে মাহমুদ আব্বাসকে চাপ দেওয়া এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বসে মার্কিন স্টাইলের শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর আলোচনার মতো বিষয়গুলোও সামনে এসেছে পূর্ববর্তী কিছু প্রতিবেদনে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করায় মুসলিম বিশ্ব ক্ষোভে ফুঁসলেও এ ইস্যুতে দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্রের পাশেই থাকছে সৌদি আরব। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েই ‘দায়িত্ব’ শেষ করেছে দেশটি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, রিয়াদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করেন ট্রাম্প। প্রতিক্রিয়ায় ওই ঘোষণাকে ‘অন্যায্য ও দায়িত্বহীন’ সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে সৌদি রয়েল কোর্ট। এই একই রয়েল কোর্ট একইসঙ্গে নিজ দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর ট্রাম্পের এ স্বীকৃতি সংক্রান্ত খবর প্রচারে বিধিনিষেধ আরোপ করে। রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের সম্পাদকদের কাছে এ বিষয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এতে জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের খবর বেশি সময় ধরে প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আল আকসা মসজিদের জিম্মাদার জর্ডানে ব্যাপক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ওই ঘোষণার পরদিনই জর্ডানের সৌদি দূতাবাস থেকে দেশটিতে অবস্থানরত সৌদি নাগরিকদের ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ না নিতে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
জর্ডানের সৌদি দূতাবাসের অফিসিয়াল টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে জর্ডানে অবস্থানরত সৌদি নাগরিক এবং দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সৌদি শিক্ষার্থীদের জনসমাগম ও বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সৌদি আরব এখন যুক্তরাষ্ট্রের যে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে এগুচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে সেটি নতুন কিছু নয়। গত নভেম্বরে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের রিয়াদ সফরকালে তাকে এ পরিকল্পনার ব্যাপারে অবহিত করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ইহুদি ধর্মাবলম্বী জামাতা জ্যারেড কুশনার ২০১৮ সালের গোড়ার দিকে একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাশা করছেন। এ বিষয়ে অবস্থান জানাতে ফিলিস্তিনি নেতাকে দুই মাসের সময় বেঁধে দেন সৌদি যুবরাজ।
সৌদি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা না রেখে এবং জেরুজালেমকে রাজধানীর স্বীকৃতি না দিয়ে একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করা হবে। পূর্ব জেরুজালেমের বদলে এ রাষ্ট্রের রাজধানী হবে আবু দিস নামের একটি ফিলিস্তিনি এলাকা।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, এ প্রস্তাব মূলত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার অংশবিশেষ। মাহমুদ আব্বাস ও সৌদি যুবরাজের কথোপকথন শুনেছেন এমন এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমমটি বলছে, সৌদি আরব আব্বাসকে এমন একটি পরিকল্পনা দিয়েছে যা কোনও ফিলিস্তিনি নেতা গ্রহণ করতে পারেন না।
সৌদি আরবের প্রস্তাবে গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরের কিছু অংশে সীমিত ফিলিস্তিনি সার্বভৌমত্ব, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ফেরার অধিকার না রাখা, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা না করা এবং পশ্চিম তীরের বেশিরভাগ ইহুদি বসতি অক্ষুণ্ন রাখার কথা বলা হয়েছে।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ১৯৪৮ ও ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে যেসব মানুষ শরণার্থী হয়েছেন তাদের আর নিজ ভূমিতে ফেরার কোনও সুযোগ থাকবে না।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওই প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছেন ফিলিস্তিনের চার কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা জানান, ওই প্রস্তাব নিয়ে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মধ্যে ব্যাপক দর কষাকষি হয়েছে। তবে সৌদি যুবরাজ মাহমুদ আব্বাসকে আশ্বস্ত করে বলেন, ধৈর্য ধরুন। আপনি ভালো খবরই পাবেন। শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কে নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। তবে দুই দেশের অভিন্ন শত্রু ইরানকে মোকাবিলায়ই এর একমাত্র কারণ নয়। বরং ট্রাম্পের ইসরায়েলবান্ধব জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের সম্পর্ক বেশ গভীর। মূলত কুশনারের সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই নিজ দেশে রাজপরিবারের সদস্যদের ওপর গণগ্রেফতার চালানোর মতো ঝুঁকি নেওয়ার সাহস করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে সৌদি রয়েল কোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তারা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসেরও বক্তব্য জানার চেষ্টা করে রয়টার্স। তারা এর জবাব দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে বলা হয়, সৌদি যুবরাজকে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে ফিলিস্তিনি নেতার সঙ্গে আলোচনা করতে বলেননি জ্যারেড কুশনার। তবে ফিলিস্তিনি নেতাদের আশঙ্কা, সৌদি যুবরাজ মূলত ইহুদি ধর্মাবলম্বী জ্যারেড কুশনারের অবস্থানই মাহমুদ আব্বাসের কাছে পুনরাবৃত্তি করেছেন। তারা বলছেন, সৌদি যুবরাজ যে প্রস্তাব দিয়েছেন তাতে আর রাষ্ট্র গঠনের মতো উপাদান বিদ্যমান থাকে না।
ওয়াশিংটনের ব্রুকিংস ইন্সটিটিউশনের সিনিয়র ফেলো শাদি হামিদ। রয়টার্স’কে তিনি বলেন, অধিকাংশ আরব রাষ্ট্রই ট্রাম্পের এ ঘোষণা নিয়ে আপত্তি তুলবে না। কারণ আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় তারা এখন ইসরায়েলের সঙ্গে অধিক সংযুক্ত। এর মধ্যে বিশেষ করে ইরানকে জবাব দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলের গোপন সম্পর্কের বিষয়টিও এখন নতুন কিছু নয়। এ বছরের নভেম্বরে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন, ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী ইউভাল স্টেইনিৎজ। দেশটির ‘আর্মি রেডিও’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘অনেক মুসলিম ও আরব দেশের সঙ্গে আমাদের সত্যিকার গোপন সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। সৌদি আরবই চেয়েছে ইসরায়েলের সঙ্গে তার সম্পর্ক গোপন রাখতে। এতে আমাদের কোনও সমস্যা ছিল না।’ ইসরায়েলি মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর সৌদি আরবও বিষয়টি অস্বীকার করেনি।
ইসরায়েলি জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘সৌদি আরবসহ কোনও আরব দেশ বা কোনও মুসলিম দেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী হলে আমরা তাদের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানাই। আমরা সে সম্পর্ক গোপন রাখি।’
সৌদি-ইসরায়েলের সম্পর্কের সুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানকে প্রতিহত করতে সৌদিসহ আধুনিক আরব বিশ্বের যোগাযোগ আমাদেরকে সাহায্য করেছে। তেহরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর পরমাণু চুক্তির বিরুদ্ধেও আমাদের চেষ্টায় এই আরব দেশগুলো সহযোগিতা করেছে। এমনকি বর্তমানে সিরিয়ায় ইরানের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের কাজেও সুন্নি আরব বিশ্ব আমাদের পাশে রয়েছে।’
উল্লেখ্য, পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখতে চায় ফিলিস্তিন। আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও শহরটিকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে মেনে নেয়নি। এখন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইসরায়েলবান্ধব ট্রাম্প প্রশাসন আর সৌদি আরব যদি একই এজেন্ডা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করে সেটা ফিলিস্তিনিদের জন্য একটা বড় দুঃসংবাদ হিসেবেই বিবেচিত হবে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, মিডল ইস্ট মনিটর।
ভারতের চন্ডীগড়ে নিজেদের ১০ বছর বয়সী ভাগ্নীকে ধর্ষণের দায়ে তার দুই মামাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
মামাদের দ্বারা নির্যাতিতা ওই শিশুটি গত অগাস্ট মাসে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে।
তার আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে এই ঘটনাটি ভারতের সংবাদমাধ্যমে শিরোনামে উঠে এসেছিল, যখন ওই শিশুটির পরিবার তার গর্ভপাতের আবেদন নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের কাছে হাজির হয়েছিল।
সুপ্রীম কোর্টও যেমন গর্ভপাতের আবেদন খারিজ করেছিল, তার আগে পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্ট এবং চন্ডীগড়ের আদালতও শিশুটির পরিবারের সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।
ভারতের আইন অনুযায়ী গর্ভসঞ্চারের ২০ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করানো যায়। কিন্তু যখন এই শিশুটির পেটে সন্তান আছে বলে বোঝা যায়, ততদিনে সেই সময় পেরিয়ে গেছে।
এই দেরীর কারণ হিসাবে তার পরিবার বলেছিল, শিশুটি যেহেতু বুঝতেই পারে নি যে তার সঙ্গে কী অত্যাচার হয়েছে, সে নিজের বাবা-মাকে জানাতেও পারে নি বিষয়টি। পেটে ব্যথা শুরু হওয়ার পরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তার বাবা-মা জানতে পারেন যে তাদের ১০ বছর বয়সী মেয়ে গর্ভধারণ করেছে।
তারপরেই তার এক মামাকে গ্রেপ্তার করা হয় ধর্ষণের দায়ে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সর্বোচ্চ চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে নির্যাতিতা ওই শিশুটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। সে নিজে যেমন জানেই না যে সে মা হয়েছে, তেমনই তার বাবা-মা-ও ওই সদ্যজাতের মুখও দেখেন নি।
কিন্তু পুলিশ ওই সদ্যজাতর ডিএনএ সংগ্রহ করে তা মিলিয়ে দেখতে যায় আগেই ধৃত নির্যাতিতার মামার সঙ্গে।
তখন ডিএনএ না মেলায় প্রশ্ন ওঠে যে তাহলে কে ধর্ষণ করেছিল ওই শিশুটিকে!
ওই নির্যাতিতাকে দ্বিতীয়বার প্রশ্ন করে জানা যায় বছর চল্লিশের বড় মামা ছাড়া তার ছোট মামার নামও।
সদ্যজাতর ডিএনএ মিলে যায় নির্যাতিতার ছোট মামার সঙ্গে।
Extreme violence and persecution in the western Rakhine State of Myanmar have caused more than 500,000 Rohingya people, an ethnic minority, to flee their homes in search of a safe haven. Leaving almost all they own behind, the majority of those fleeing have crossed the border into Bangladesh. This fund will exclusively support relief efforts by vetted organizations working in the area that are providing emergency assistance and ongoing support to those in need.
total goal $1,000,000
remaining $929,220
donors 496
monthly donors 9
days 16
Challenge
Since Aug. 25, 2017, the Rohingya population in Myanmar has been subjected to extreme violence and has been forced to flee their homes. There have been reports of helicopters firing on civilians, the extra-judicial executions of women and children, and the burning of entire villages. The United Nations High Commissioner for Human Rights called the situation a “textbook example of ethnic cleansing,” and the crisis has caused a mass exodus of the Rohingya across the border into Bangladesh.
Solution
This fund will support life-saving assistance and relief efforts for Rohingya people displaced by violence and conflict, specifically in and around the refugee camps in the Cox’s Bazar area of Bangladesh and in neighboring settlements. Your support will help survivors and victims get necessary immediate relief supplies like food and hygiene kits, as well as provide longer-term support through activities like the construction of much needed medical clinics and field hospitals.
Long-Term Impact
Our partners are working to ensure that Rohingya refugees and their families can lead safe, hopeful, and productive lives. GlobalGiving will post reports about how funds are used; subscribers will receive these reports via email.
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন (বাঁয়ে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য নতুন করে একটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরোপের দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা এলো।
স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন এই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প।
তবে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কোনো অবস্থাতেই উত্তর কোরিয়াকে দমাতে পারবে না। এ ধরনের চাপ শুধু উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচিকেই ত্বরান্বিত করবে।
বিবিসি জানায়, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়ন কর্মসূচিতে অর্থের উৎস বন্ধ রাখতেও এ নিষেধাজ্ঞা কাজ করবে। এর ফলে উত্তর কোরিয়ার পোশাকশিল্প, মৎস্য, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ট্রাম্প জানান, চীনের সেন্ট্রাল ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংককে পিয়ংইয়ংয়ের (উত্তর কোরিয়ার রাজধানী) সঙ্গে ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানুচিন পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈদেশিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এরই মধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র বা উত্তর কোয়িরার সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে। কিন্তু একসঙ্গে এ দুই দেশের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না।’
কিছুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়ামে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। পৃথিবী থেকে দৃশ্যত বিচ্ছিন্ন দেশটি প্রতিবেশী দেশ জাপানের ওপর দিয়ে দুটি ক্ষেপণাস্ত্রেরও পরীক্ষা চালিয়েছে। এ ছাড়া সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক বোমারও পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি।
সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ওই ক্ষেপণাস্ত্র অন্তত ৭৭০ কিলোমিটার (৪৭৮ মাইল) ওপরে ওঠে। ক্ষেপণাস্ত্রটি তিন হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে জাপানের হোক্কাইডো সমুদ্রবন্দরে গিয়ে পড়ে।
এর আগের দিন, অর্থাৎ ১৪ সেপ্টেম্বর পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষার জেরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব ও নিষেধাজ্ঞায় সমর্থন দেওয়ায় জাপানকে ‘ডুবিয়ে দেওয়া’ ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ছাইভস্ম ও অন্ধকারাচ্ছন্ন’ করার হুমকি দেয় উত্তর কোরিয়ার একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা।
গত ৩ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে জাতিসংঘ। এর ফলে পোশাকশিল্পে রপ্তানি বন্ধ ও তেল আমদানি সীমাবদ্ধ করা হয়। ২০০৬ সালের পর এটা জাতিসংঘের নবম নিষেধাজ্ঞা। আর ২০০৮ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
Image captionবাংলাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের পাঠ্যবইয়ে ভুল ও অসঙ্গতির প্রেক্ষাপটে তা সংশোধনে কমিটি গঠন করা হয়।
বাংলাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের একটি পাঠ্যবইয়ে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য কৌশল হিসেবে উল্লেখিত কিছু বিষয়কে নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবক এবং শিক্ষা গবেষকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
কারণ অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যবইতে কৌশল হিসেবে যেসব বিষয় এসেছে সেখানে, বাড়িতে একা না থাকতে, অন্যকে আকর্ষণ করে এমন পোশাক না পরতে, পরিচিত বা অপরিচিত কারো সাথে বাইরে না যেতে বলা হয়েছে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহল প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলছে, এখানে মেয়েদের টার্গেট করার প্রচলিত ধ্যান-ধারণাই উঠে এসেছে। ফলে পাঠ্যবইকে ঘিরে ভুল-ভ্রান্তি আর বিতর্কের বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে।
Image captionঅষ্টম শ্রেণীর গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বইয়ে অন্তুর্ভূক্ত সতর্কবাণী ।
ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার রিফাত সুলতানার বাবা-মা দুজনই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তাই দিনের অনেকটা সময় তাকে থাকতে হয় বাড়িতে একাই।
সে বলে, “এখানে আসলে কিছু করার নেই। আমার আব্বু আম্মু যখন থাকে না আমাকে একা একাই থাকতে হয়”।
চাকরিজীবী বাবা-মায়ের সন্তানরা কখনো কখনো বাড়ির খল্ডকালীন গৃহকর্মীর সঙ্গ পেলেও, রাজধানীর অনেক পরিবারেই এখন এমন চিত্র। বাবা-মায়েরা বিভিন্ন প্রয়োজনে ছেলে বা মেয়েটিকে বাড়িতে একা রেখে বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন হর-হামেশা।
এমন প্রেক্ষাপটে ক্লাস এইটের গার্হস্থ্য-বিজ্ঞান বইতে যৌন নিপীড়ন থেকে বাচার জন্য মেয়েদেরকে বাড়িতে একা না থাকাসহ বেশকিছু কৌশলের নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
Image captionমেয়েদের বিভিন্ন যৌন হামলা থেকে রক্ষার পাঠ নিতে হলে সেটি ছেলে শিক্ষার্থীদেরও পাঠ্যবস্তু হওয়া দরকার মনে করেন, শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। (প্রতিকী ছবি)
বইয়ের ৬৫ নম্বর পৃষ্ঠায় পাঠ-৩-এ বলা হয়, যৌন নিপীড়ন সমবয়সীরা ছাড়াও যেকোনো নিকট আত্মীয়, পরিচিত ব্যক্তি, বয়স্ক যেকোনো সদস্যের মাধ্যমে হতে পারে। বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে নিজেকে রক্ষা করার পাঠের সপ্তম অধ্যায়ে যৌন নিপীড়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বেশকিছু কৌশলের কথা বলা হয়েছে পয়েন্ট করে ।
গার্হস্থ্য-বিজ্ঞান বইটি পাঠ করতে হয় কেবল মেয়ে শিক্ষার্থীদের। তাই প্রশ্ন উঠেছে যৌন নির্যাতন এড়ানো বিষয়ক শিক্ষা কি কেবল মেয়েদেরই নিতে হবে? নাকি ছেলেদের পাঠ্যসূচিতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকা দরকার ?
দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অমি রহমান বলছিলেন, “আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বাবা-মায়েদের সাথে অনেককিছু শেয়ার করা যায়না। আবার পাঠ্যবইতে বা কারিকুলামেও কিছু নেই। আমার মনে হয় আমাদের বইতেও থাকা দরকার। কিভাবে একটি ছেলে একটি মেয়েকে একজন মানুষ হিসেবে সম্মান করবে।”
তার মতে, পাঠ্যবইয়ে এ ধরনের বিভাজন কাম্য নয়। তাহলে ছেলেমেয়ের বিভাজনও গড়ে ওঠে শিশুবয়স থেকেই।
Image captionস্কুলের সামনে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের অনেকেই বলেন, পাঠ্যবইয়ে ভুল এবং বিতর্কিত বিষয় শিশুদের মধ্যে বিভ্রান্তির কারণ হয়ে উঠছে।
ঢাকার নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নুন স্কুলের সামনে ছুটির সময়টায় বাইরে অপেক্ষমান অভিভাবকদেরদেখা যায় । তাদের কাছে জানতে চাই বিষয়টি নিয়ে তারা কি ভাবছেন?
একজন অভিভাবক মশিউর রহমান বলেন,এখানে পোশাক আশাকের কথা বলে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদের আসলে ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই এই শিক্ষা দিতে হবে। পরিবার এবং স্কুল সব জায়গা থেকেই দিতে হবে।
আরেকজন মিসেস মজিলা রহমান বলেন, শুধু মেয়েদের ওপর চাপালে হবে না, তাহলে তারা আতঙ্কগ্রস্ত হবে।
আরেকজন অভিভাবক বলেন, আমি মনে করি এ বিষয়ে পাঠদান দিতে হবে তবে তা দিতে হবে অন্যভাবে। প্রয়োজনে শিক্ষকরা স্কুলে কাউন্সেলিং করবে।
যে বইয়ের বিষয় নিয়ে এই কথাবার্তা হচ্ছে সেটি লেখার ক্ষেত্রে দায়িত্বে ছিলেন ৬/৭ জন। আর তার সম্পাদনার ক্ষেত্রেও ছিলেন একাধিক ব্যক্তি।
পাঠ্যবয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি বইয়ের লেখক, সম্পাদক, বিষয় বিশেষজ্ঞ ও পরিমার্জনকারী থাকেন একাধিক । তারপরও বাংলাদেশে পাঠ্য পুস্তককে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলছিলেন, ” যারা এই ধরনের পাঠ্যপুস্তক লিখেছেন তারা অবশ্যই আমাদের সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় এনেই লিখেছেন। তবে ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। কেউ যদি এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ থাকে আমাদের কাছে পাঠালে আমরা পাঠ্যসূচি পরবির্জনের সময় তা যাচাই করে দেখবো”।
তিনি জানান, বই লেখেন বিশেষজ্ঞরা, যৌক্তিক মূল্যায়ন হয় এবং তা সংশোধনেরও সুযোগ রয়েছে। কারও কোনো পরামর্শ থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
Image captionনবম-দশম শ্রেণীর এই বইটির প্রায় প্রতিটি পৃষ্ঠায় ভুল অথবা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে সংশোধন কমিটির সদস্যদের কাছে। যদিও প্রতিটি বই তৈরিতে লেখক, সংকলক এবং সম্পাদক থাকেন একাধিক ব্যক্তি।
প্রশ্ন উঠেছে বই রচনা এবং তার সম্পাদনার বিষয় নিয়েও। পাঠ্যবইয়ের মলাট ওল্টালেই যে নামগুলো লেখা থাকে তারা এসব বিষয়ে কতটা সচেতন থাকেন? তারা কি আদৌ বইয়ের বিষয়বস্তুগুলো পড়ে দেখেন?
যে পদ্ধতিতে বাংলাদেশে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয় সে প্রক্রিয়া কতটা যথাযথ সে নিয়ে প্রশ্ন আছে শিক্ষা গবেষকদের।
ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষা ও গবেষনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দা তাহমিনা আক্তারের কথায় তেমনটাই উঠে আসে।
“আমার মনে হয় যারা এই বইগুলো রচনার সাথে জড়িত তারা আদৌ এগুলো পড়েন কিনা সেটাই প্রশ্ন। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণও হয়না। একজন বোর্ডের সমন্বয়ক থাকেন । কোন অসঙ্গতি থাকলে তাকে সেটি দেখতে হবে। কমিটির সবার কন্টেন্ট পড়তে হবে। সম্পাদক কি করেন? তিনি কি না দেখে মুদ্রণের জন্য পাঠিয়ে দেন। লেখকরা যতক্ষণ সন্তুষ্ট না হবেন ততক্ষণ মুদ্রণে পাঠানো যাবে না।”।
Image captionঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দা তাহমিনা আক্তার
পাঠ্যবইয়ে ভুল ও অসঙ্গতির মাত্রা সাম্প্রতিক সময়ে এতটাই ভয়াবহ রূপ নেয় যার ফলে সরকারি কর্তৃপক্ষ এসব ভুল বিকৃতি অসঙ্গতি চিহ্নিত করতে বিশিষ্ট শিক্ষা ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়।
সেই কমিটির একজন সদস্য উদয়ন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী। তার ওপর দায়িত্ব পড়েছিল নবম দশম শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য বইয়ের ভুল ও অসঙ্গতি তুলে ধরার।
তার যে যেসমস্ত নজির তারা পেয়েছেন তাতে পাঠ্যবই প্রস্তুতে উদাসীনতা আর অজ্ঞতা অনেক বড় করে ধরা পড়েছে তার কাছে।
শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, উদাসীনতা এবং অযোগ্যতা নিশ্চই ছিল। নাহলে এত ভুল কেন হবে?
তিনি বলেন, ” হাস্যকর সব ভুল। ২৬২ পৃষ্ঠার বইতে প্রায় প্রতিটি পৃষ্ঠায় ভুল আর অসঙ্গতি। যত্ন আর মনোযোগের অভাব। সেসঙ্গে যারা লিখেছেন তারা হয়তো ভালো বানান জানেনই না।”।
অতীতে ইতিহাসের বিকৃতি নজরে এলেও এমন করে ভুল ভ্রান্তি ছিলনা বলে জানাচ্ছেন কমিটির সদস্যরা।
কমিটির আরেকজন সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, অনেকরকম দুর্বলতা ছিল। এর পেছনে রাজনৈতিক কারণকে বড় করে উল্লেখ করেন তিনি।
তার মতে, পাঠ্যবই তৈরির ক্ষেত্রে একধরনের প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের প্রভাব তার নজরে পড়েছে। যার ফলে তাদের রক্ষণশীল চিন্তাধারার প্রভাব পড়ছে বইয়ের পাতায়।
Image captionপাঠ্যবইতে কোনও ধরনের সংশোধনী আনাও সহজসাধ্য ব্যাপার নয় কারণ লক্ষ লক্ষ বই সংশোধনীতে লেগে যায় দীর্ঘ সময় ।
শ্যামলী নাসরিন চৈৗধুরী জানান সংশোধন কমিটির কাজ করতে গিয়ে শুরুতেই হোঁচট খেতে হয় সদস্যদের।
হেফাজতে ইসলাম যেসব দাবি তুলেছিল তার সাথে শেষপর্যন্ত আপোষ করার বিষয়টিও উঠে আসে তাদের কথায়।
“সমস্যা অনেক ছিল আমরা যখন কাজ শুরু করি তখনই নির্দেশ দেয়া হয় যে শুধু ভুল সংশোধন করা যাবে। কিন্তু আগের বই থেকে যে গদ্য ও কবিতা বাদ পড়েছে সে বিষয়ে শুরুতেই জানিয়ে দেয়া হয় আমরা কন্টেন্টে হাত দিতে পারবো না”।
আর অধ্যাপক আকাশ বলেন, পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুতে ভোটের রাজনীতির প্রভাব যতক্ষণ পর্যন্ত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত পাঠ্যবইকে ঘিরে বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, “হেফাজতে ইসলামের দবির প্রেক্ষাপটে গল্প কবিতা বাদ দেয়া হয়। তাদের দাবির আসর এখনো আছে বলেই মনে হয়।”
জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এবছর ৩৫ কোটি ৪২ লাখের বেশি পাঠ্যবই মুদ্রণ করেছে। পাঠ্যবইতে কোনও ধরনের সংশোধনী আনাও সহজসাধ্য ব্যাপার নয় কারণ এই লক্ষ লক্ষ বই সংশোধনীতে লেগে যায় দীর্ঘ সময় ।
ফলে পাঠ্যবইকে ঘিরে যেকোনো বিতর্ক স্পর্শকাতর তাই যেকোনো বিষয়বস্তু নির্ধারণ ও তা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা বজায় রাখার কথা উঠে আসছে অভিভাবক এবং গবেষকদের কথায়।
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২০:২১ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২১:২৫
অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক রেডক্রসের ত্রাণসামগ্রী নিয়ে রাখাইনের পথে যাচ্ছিল এই নৌকাটি। ছবি : এনটিভি
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য নিয়ে যাওয়া ত্রাণবাহী নৌকাকে লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির পক্ষ থেকে ত্রাণ নিয়ে নৌকাটি রাখাইন রাজ্যে যাচ্ছিল।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বুধবার রাতে রেডক্রসের কর্মীরা রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতেতে ত্রাণসামগ্রী নৌকায় তুলছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে সেখানে হাজির হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন শতাধিক বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁরা নৌকাটিকে বাধা দেন এবং নৌকাটি লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে মারেন।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অবস্থান নেন প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য। এসময় কয়েকজন আহতও হন।
আরাকানের সহিংসতাপ্রবণ উত্তরাঞ্চলের রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছিল নৌকাটি। যেখানে সেনাবাহিনীর অত্যাচারে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে তারা। সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, যেসব রোহিঙ্গারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালাচ্ছে এবং যারা আরাকানে আছে তাদের উভয়েরই সহায়তা দরকার।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ওই জনতার দলটি ভেবেছিল এই ত্রাণ শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বৌদ্ধ ধর্ম প্রধান দেশটিতে মুসলিম রোহিঙ্গারা জাতিগতভাবেই সংখ্যালঘু। মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতেও রাজি নয়। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দাবি, রোহিঙ্গারা অবৈধ অভিবাসী।
মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিন মং রয়টার্সকে বলেন, শতাধিক মানুষ রুদ্রমূর্তি ধারণ করে ওই নৌযানটির গতিরোধ করেন। তাঁরা মনে করেছিলেন এই সব ত্রাণ ‘বাঙালি’দের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ নামেই অভিহিত করা হয় বলেও বিবিসির ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, ঘটনাটি সম্পর্কে স্বীকার করলেও এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি আইসিআরসির মুখপাত্র গ্রাজিয়েলা লেইটে পিকলি।
রাখাইন রাজ্যে আগেও জাতিগত সহিংসতা হয়েছে। সাম্প্রতিক সংকট শুরু হয় গত ২৫ আগস্ট। সেখানে চালানো সেনাবাহিনীর হামলার কারণে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে পাঠ্যপুস্তকে জাতিগত নিধনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করার কথা বলেছে।
শক্তিশালী হারিকেন মারিয়ার আঘাতে ডমিনিকায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছে ২০ জনের বেশি। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের প্রধানমন্ত্রী রুজভেল্ট স্কেরিট গণমাধ্যমকে একথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, মারিয়া যে প্রবল শক্তি নিয়ে আঘাত হেনেছে তাতে যে শয়ে শয়ে মানুষ মারা যায়নি সেটা একটা ‘মিরাকল’। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ক্যাটাগরি ৪ মাত্রার এই হারিকেনটি দ্বীপে আছড়ে পড়ে। বিবিসি
ছবির কপিরাইটBBNজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ নি:শর্তে বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের সমস্যা স্থায়ী সমাধানে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণে তিনি এই মানবিক সংকট নিরসনের জন্য পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমত অনতিবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ নি:শর্তে বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে মিয়ানমারের ভিতরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সেফ জোন বা নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলার প্রস্তাব করেছেন। তিনি জাতিসংঘের মহাসচিবকে অনতিবিলম্বে মিয়ানমারে একটি অনুসন্ধানী দল পাঠাতে বলেছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো নি:শর্তভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ব্যাপারে বিশ্বের সহযোগিতা চেয়েছেন।
রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানের প্রস্তাবের পাশাপাশি সন্ত্রাস এবং জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থানের কথাও জাতিসংঘে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাধারণ পরিষদে এই ভাষণের আগে তিনি ওআইসি কন্টাক্ট গ্রুপের বৈঠকসহ বিভিন্ন সভায় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবের বিষয়ে বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাতকারে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী রীয়াজ বলেন, এ প্রস্তাবগুলোর ইতিবাচক দিক হচ্ছে, এগুলো স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে বৈশ্বিক রাজনীতির ওপর।